By : Supriya
Updated at : 27 july 2026
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর প্রথম তিন দিন তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকার পর চতুর্থ দিনে পদকের ছন্দ ফিরে পেল ভারত। ভারোত্তোলন থেকে একটি সোনা ও দুটি রুপো জেতেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। এর আগে প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে জেতা একটি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে চতুর্থ দিনের শেষে ভারতের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার—একটি সোনা, দুটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকায় ভারত উঠে এসেছে অষ্টম স্থানে।
মীরাবাই চানুর সোনায় ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক
দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতের তারকা ভারোত্তোলক সাইখোম মীরাবাই চানুর হাত ধরে। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে সোনা জেতেন তিনি। স্ন্যাচে ৮৫ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি তোলেন মীরাবাই। স্ন্যাচ ও মোট ওজন—দুই ক্ষেত্রেই গেমস রেকর্ড গড়ে ভারতের এবারের আসরের প্রথম সোনা নিশ্চিত করেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের নজির গড়লেন মীরাবাই। ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসে রুপো জেতার পর ২০১৮ ও ২০২২ সালে সোনা পেয়েছিলেন তিনি। এবার আবার গ্লাসগোতেই সোনা জিতে কমনওয়েলথ গেমসে নিজের চতুর্থ পদক অর্জন করলেন ভারতীয় তারকা।

রিশিকান্তার রুপো, স্ন্যাচে গেমস রেকর্ড
পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে রুপো জেতেন মণিপুরের চানামবাম রিশিকান্তা সিং। স্ন্যাচে নিজের তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১২১ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড করেন তিনি। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৩ কেজি তুলে তাঁর মোট ওজন দাঁড়ায় ২৬৪ কেজি।
সোনার লড়াইয়ে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ আনিক বিন কাসদানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রিশিকান্তা। মালয়েশিয়ার প্রতিযোগী মোট ২৬৬ কেজি তুলে সোনা জেতেন। রিশিকান্তা শেষ দুটি ক্লিন অ্যান্ড জার্ক প্রচেষ্টায় ১৪৮ ও ১৫১ কেজি তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় মাত্র দুই কেজির ব্যবধানে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে।
প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে রাজা মুথুপান্ডির রুপো

ভারতের তৃতীয় ভারোত্তোলন পদকটি আসে রাজা মুথুপান্ডির কাছ থেকে। পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে স্ন্যাচে ১২৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি তুলে মোট ২৮৬ কেজি ওজন নিয়ে রুপো জেতেন ২৬ বছর বয়সী এই ভারতীয় ভারোত্তোলক।
মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ আজনিল বিন বিদিন মোট ২৯৯ কেজি তুলে গেমস রেকর্ডসহ সোনা জেতেন। পাপুয়া নিউগিনির মোরিয়া বারু ২৮২ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পান। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করা মুথুপান্ডির এটি প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক। গুরুতর কনুইয়ের চোট এবং দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর তাঁর এই রুপো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতের প্রথম পদক এসেছিল ঝান্ডু কুমারের হাত ধরে
চতুর্থ দিনের আগে ভারতের ঝুলিতে ছিল মাত্র একটি পদক। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বিহারের ঝান্ডু কুমার। সেটিই ছিল গ্লাসগো গেমসে ভারতের প্রথম পদক। মীরাবাই, রিশিকান্তা এবং মুথুপান্ডির সাফল্যের পর ভারতের মোট পদকসংখ্যা চার হয়।
বক্সিং ও সাঁতারেও ইতিবাচক ফল

পদকের বাইরেও কয়েকটি বিভাগে ভারতীয়দের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল। বক্সিংয়ের রাউন্ড অব ৩২-এ ভারতের যদুমণি সিং স্কটল্যান্ডের কলেন অ্যারনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেন। অন্যদিকে, ড্রয়ের সুবিধায় সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়ায় তারকা বক্সার লাভলিনা বরগোঁহাইয়ের একটি পদক নিশ্চিত হয়েছে।
পুরুষদের ৪×২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে ফাইনালে ভারতীয় দল ষষ্ঠ স্থানে শেষ করে। শ্রীহরি নটরাজ, আর্যন নেহরা, অনীশ গৌড়া এবং দক্ষণ শশীকুমারের দল ৭ মিনিট ২৯.৮৪ সেকেন্ড সময় নেয়। অস্ট্রেলিয়া গেমস রেকর্ড গড়ে এই ইভেন্টে সোনা জেতে।
চতুর্থ দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে ভারতের ভারোত্তোলকদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এক দিনে একটি সোনা ও দুটি রুপো জিতে তাঁরা শুধু ভারতের পদকখরা কাটাননি, পরবর্তী দিনগুলোর জন্য গোটা ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছেন |
