রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে শোরগোল। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা এবার আরও তীব্র আকার ধারণ করল। আর এই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন খোদ দলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক নতুন বিতর্ক দলের ভেতরের অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক

দলের অন্দরেই কি বাড়ছে দূরত্ব?
বেশ কিছুদিন ধরেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে একাধিক সমীকরণ নিয়ে নানা কানাঘুষো চলছিল। দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গুঞ্জন রাজ্য রাজনীতিতে একেবারেই নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই জল্পনাতেই যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে। দলীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের একটি বিশেষ অংশের সঙ্গে সায়নী ঘোষের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক অবস্থান এবং মন্তব্যকে ঘিরে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কী বলছে রাজনৈতিক মহল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবনেত্রীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক দলের এই নতুন বিতর্কের সুযোগ নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধীরাও। বিরোধী দলগুলির দাবি, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতাদের লাগাতার বিতর্ক আসলে দলের আসন্ন বড়সড় ভাঙনেরই পূর্বলক্ষণ।
নেতৃত্বের নীরবতা যদিও ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটি বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পাশাপাশি, খোদ সায়নী ঘোষ নিজে প্রকাশ্যে এই বিতর্কের কী জবাব দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত বা আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরের এই নয়া জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে ঠিক কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
