Edited by; Supriya Paul
Updated at; 27jun2026
পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা আরও কঠোর করতে বিধানসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, ভাঙচুর, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং জনশৃঙ্খলা নষ্টের মতো ঘটনাকে কঠোরভাবে দমন করতেই এই নতুন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কোন দুটি বিল আনা হচ্ছে?
সরকার বিধানসভায় যে দুটি বিল পেশ করার পরিকল্পনা করেছে, সেগুলি হল—
- The West Bengal Public Safety and Control of Anti-social Activities Bill, 2026
- The West Bengal Maintenance of Public Order (Amendment) Bill, 2026

প্রথম বিলের মূল উদ্দেশ্য কী?
এই বিলে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর আওতায় পড়তে পারে—
- জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি
- সংঘবদ্ধ অপরাধ
- বেআইনি দখল
- সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর
- অবৈধ বালি বা খনি ব্যবসা
- জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো কার্যকলাপ
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বা পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলকভাবে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে। এছাড়া প্রয়োজনে কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা থেকেও নির্বাসিত করার বিধান রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয় বিলের বিশেষত্ব
The West Bengal Maintenance of Public Order (Amendment) Bill, 2026-এ সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা হিংসার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী—
- ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি বিশেষ দাবি কমিশন (Claims Commission) গঠন করা হতে পারে।
- কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।
- প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা আইনানুগ অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

সরকারের বক্তব্য
সরকারের মতে, বর্তমান আইনে সংগঠিত অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই নতুন এই আইনি কাঠামো আনা হচ্ছে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের দাবি, এত কঠোর আইন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের মতে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এখন কী?
বিলগুলি বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর আলোচনা হবে। পরে ভোটাভুটিতে পাশ হলে এবং রাজ্যপালের সম্মতি মিললে এগুলি আইনে পরিণত হবে।
