ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় চেতনা জোরদার করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
By : Supriya
Updated at : 13 jul 2026
রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে এবার কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ডিজে থেকে দূরে থাকবেন, আর বন্দেমাতরম গাইতেই হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। অত্যধিক শব্দে ডিজে বাজানোর প্রবণতা শুধু সাধারণ মানুষের অসুবিধাই সৃষ্টি করে না, বরং আদালতের নির্দেশিকা ও প্রশাসনের নির্ধারিত শব্দদূষণ নীতিকেও লঙ্ঘন করে।
তিনি বলেন, “উৎসব আনন্দের জন্য, কিন্তু সেই আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় ডিজের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।”
‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার উপর জোর

বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় চেতনা এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় গৌরবকে সম্মান জানানো প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
তিনি জানান, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচিগুলিকে কেবলমাত্র বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেখানে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরা উচিত।
শব্দদূষণ নিয়ে প্রশাসনের কড়াকড়ি
প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় উচ্চ শব্দে ডিজে বাজানো নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত ডেসিবেল সীমা অতিক্রম করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই আদালতের নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসকদলের নেতারা দাবি করেছেন, এটি সামাজিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় মূল্যবোধ রক্ষার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্যের বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের বার্তা
সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যের সব ধরনের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। আইন মেনে অনুষ্ঠান আয়োজন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার উপরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মূল বক্তব্য এক নজরে
- ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিজে ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
- “বন্দেমাতরম গাইতেই হবে”—জাতীয় চেতনার উপর জোর।
- শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ছে।
- আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান।
- মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
