রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর থেকে একযোগে সুরাহা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বৃহস্পতিবার তাঁর চাওয়া ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা সার্বিক রক্ষাকবচের আবেদন আপাতত মঞ্জুর করল না আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে নতুন করে কোনও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার।
রাজ্য জানাল মোট আটটি এফআইআর
আগের শুনানিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় মোট কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে, তা জানতে চেয়েছিল হাইকোর্ট। এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি এফআইআর রয়েছে। এরপর অভিষেকের আইনজীবী কপিল সিব্বল ওই মামলাগুলিতে আলাদা আলাদা করে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়ার আবেদন জানান। অন্তত পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করার নির্দেশও চাওয়া হয়। আদালত অবশ্য সেই আবেদনও মঞ্জুর করেনি।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দু’টি মামলায় অভিষেক ইতিমধ্যেই আদালতের সুরক্ষা পেয়েছেন। বাকি মামলাগুলির নথি ও অভিযোগ বিবেচনা না করে এখনই সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া হবে না। পরবর্তী শুনানিতে মামলাগুলি একসঙ্গে বিবেচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুভেন্দুর রক্ষাকবচের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন সিব্বল
সওয়াল করার সময় কপিল সিব্বল রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়েরের আগে হাইকোর্টের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিষেকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা চাওয়া হয়। তবে বিচারপতি স্পষ্টভাবে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তুলনা করবেন না।”
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শুভেন্দু অধিকারীকে ওই সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেই সুরক্ষা প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট জানায়, এমন রক্ষাকবচ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না।
কেন আদালতে গিয়েছিলেন অভিষেক?

গত ৩ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলা দায়ের করে সার্বিক রক্ষাকবচ চান অভিষেক। তাঁর আবেদনে দাবি করা হয়, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রতিহিংসাবশত তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য, বেআইনি মাটি বিক্রি এবং আর্থিক দুর্নীতিতে মদত দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে। এগুলি অভিযোগমাত্র; আদালত এখনও সেগুলির সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
আইনি লড়াই চলবে
এদিনের নির্দেশে অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি বা অন্য কোনও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আদালত শুধু নতুন করে সার্বিক বা অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার করেছে। ফলে আগামী শুনানিতে আটটি এফআইআরের নথি পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন নজর থাকবে সেদিকেই।
