By : Supriya
Updated at : 24 july 2026
টানা ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার ভোরে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিংহ এবং লেহ-লাদাখের অ্যাপেক্স বডির প্রবীণ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত দৃশ্যে তাঁকে পানীয় গ্রহণ করে অনশন শেষ করতে দেখা যায়।
অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন শর্ত ও দাবি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলোচনায় ঠিক কী কী বিষয় উঠে এসেছে, তা এখনই বিস্তারিতভাবে না জানালেও শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিও প্রকাশ করে সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন অথবা চিঠি দিয়ে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তাঁর সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং কোনও ধরনের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আবেদন করেছেন।

কেন অনশনে বসেছিলেন সোনম?
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায় নির্ধারণ, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
অনশন চলাকালীন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতিতে তাঁকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সেখানে থেকেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অনশন ভাঙার সময় ওয়াংচুকের পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে স্ত্রী যেভাবে পাশে থেকেছেন, তার জন্য আবেগঘন ভাষায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওয়াংচুকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অনশন শেষ, কিন্তু আন্দোলন নয়
সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ছাত্র-যুব আন্দোলন এখনই শেষ হচ্ছে না। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে।
শুক্রবার আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলোচনার সময়েও দেশব্যাপী প্রতিবাদ বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনের মুখপাত্ররা। কেন্দ্র প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর আইন এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থার কথা বললেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু শাস্তি কঠোর করলেই হবে না—প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পথ বন্ধ করতে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
ফলে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গ কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ খুলে দিলেও, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, এখন নজর থাকবে সেদিকেই।
