“ইস্টবেঙ্গল হৃদয়ে থাকবে”— ক্লাব ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অস্কার ব্রুজোঁর এই বিদায়ী বার্তা অত্যন্ত আবেগঘন হলেও, লাল-হলুদ শিবিরের বর্তমান রূঢ় বাস্তবকে তা আড়াল করতে পারছে না। কার্লেস কুয়াদ্রাত অধ্যায়ের অবসানের পর যখন ক্লাবকে টেনে তোলার গুরুদায়িত্ব নিয়ে অস্কার ব্রুজোঁ কলকাতায় পা রেখেছিলেন, তখন সমর্থকদের মনে এক বুক আশা জেগেছিল। কিন্তু সেই আশার আলো যে এত দ্রুত নিভে যাবে, তা হয়তো অতি বড় নিন্দুকও কল্পনা করতে পারেননি। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অস্কার নিজেই লাল-হলুদ ব্রিগেডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করে দিলেন।

Source : Google AI
অস্কারের কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে একটি বড় সাফল্য পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ঘরোয়া লিগে দলের পারফরম্যান্স মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)-এর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা একটা ঐতিহ্যবাহী দলকে টেনে তোলা যে কতটা কঠিন, তা প্রতি নিয়ত টের পাচ্ছিলেন স্প্যানিশ এই কোচ। তবে কেবল মাঠের ব্যর্থতাই কি এই বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ? ফুটবল মহলের একাংশের মতে, অস্কারের বিদায়ের পেছনে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধও সমানভাবে দায়ী।
এই বিদায় কেবল একজন কোচের চলে যাওয়া নয়, এটি ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের গত কয়েক মরশুমের সেই চেনা ট্র্যাজেডিরই পুনরাবৃত্তি। বছরের পর বছর ধরে কোচ বদল, দল গঠনে দূরদর্শিতার অভাব এবং সঠিক স্থায়িত্বের (Stability) অভাব লাল-হলুদকে সাফল্যের সরণি থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। একজন কোচ এসে দলের পরিকাঠামো বা কম্বিনেশন বুঝে ওঠার আগেই যদি বিদায় নেন, তবে ফুটবলারদের মানসিকতা এবং পারফরম্যান্সে তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।
অস্কার ব্রুজোঁ পেশাদারী সৌজন্য বজায় রেখে ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, সমর্থকদের ভালোবাসাকে আজীবন মনে রাখার অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন— এই ভাঙা-গড়ার খেলা কবে থামবে? মরশুমের মাঝপথে দাঁড়িয়ে আবার এক নতুন কোচের সন্ধান করা এবং তাঁর অধীনে দলকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া নিঃসন্দেহে ম্যানেজমেন্টের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
অস্কারের বিদায় বার্তা যেমন আবেগপূর্ণ, তেমনই তা লাল-হলুদ থিঙ্কট্যাঙ্কের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তাও বটে। শুধু সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে বা ঘনঘন কোচ বদলে যে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তা এবার অন্তত অনুধাবন করার সময় এসেছে। সমর্থকদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে এবার একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার পথে হাঁটাই হবে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের প্রধান কর্তব্য। অন্যথায়, ‘হৃদয়ে থাকা’র রোমান্টিকতাটুকুই পড়ে থাকবে, মাঠের ট্রফি ক্যাবিনেটটা শূন্যই রয়ে যাবে।
