ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ, ইতিহাস জানতে ভিড় গবেষক-তরুণদের

ঐতিহাসিক ভবন, বিরল আলোকচিত্র ও শ্যামাপ্রসাদের জীবনকে ঘিরে নতুন করে বাড়ছে কৌতূহল। সংরক্ষণ ও গবেষণার দাবিও জোরদার হচ্ছে।

By : Supriya Paul

Updated at : 6 jul 2026

কলকাতার ভবানীপুরে অবস্থিত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং ভারতের জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, বিরল আলোকচিত্র এবং ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর বহু মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি দেখতে আসছেন। ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পুত্র। অল্প বয়সেই তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়।

স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন। পরে ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিতি পায়।

ইতিহাসের পাতায় ফিরে শ্যামাপ্রসাদ

বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (তৎকালীন ৩৭০ অনুচ্ছেদ)-এর বিরোধিতার কারণে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে প্রবেশের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং বন্দি অবস্থায় ২৩ জুন ১৯৫৩ তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।

ভবানীপুরের এই ঐতিহাসিক বাড়িতে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে পরিবারের নানা স্মৃতি, পুরনো নথি, বিরল আলোকচিত্র এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বাড়িটিকে ঘিরে নতুন করে জনআগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী ভবন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতিবিজড়িত স্থান নয়, বরং বাংলার শিক্ষা, সমাজ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই বাড়ির যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং জনসাধারণের জন্য আরও সুসংগঠিতভাবে উন্মুক্ত করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

বর্তমানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম নিয়ে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ায় ভবানীপুরের এই পৈতৃক বাড়ি আবারও কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের নানা অজানা অধ্যায় জানতে প্রতিদিনই এখানে আসছেন বহু মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *