১২ বছরের নাবালিকার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে বারুইপুর। অভিযুক্ত সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু এক ব্যক্তির, তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। একাধিক এলাকায় জারি BNSS-এর ১৬৩ ধারা।
বারুইপুর প্রতিনিধি:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বারুইপুর এলাকার বাসিন্দা ১২ বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয় এবং তারপর তাকে খুন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই খুনে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

গ্রেপ্তার ২, আটক ৩
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। গণপিটুনির ঘটনাতেও পৃথক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই দল ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ এবং পরবর্তী গণপিটুনির ঘটন—দুই দিকই খতিয়ে দেখছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
১৬৩ ধারা জারি
নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় বেআইনি জমায়েত, মিছিল বা এমন কোনও কার্যকলাপ যা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ, র্যাফ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রশাসনের আবেদন
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়া এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই এগোবে।
