সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকালই তৃণমূলের সব পদ ছেড়েছেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। এমনকি সরাসরি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলকে এক হাত নিয়েই ইস্তফা দিয়েছেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, ইস্তফা পত্রে তিনি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে লেখা চিঠিতে নাম না করে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) একেবারে বেনজির আক্রমণ করেন। আর আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তিনি সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে শাস্তির দাবি তুলেছেন।

লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি কাকলি ঘোষের
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে আজ নিজে হাতে চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অপমানজনক আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি আপনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি প্রার্থনা করছি, যাতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়। তিনি লোকসভার ভিতরে আমাকে বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন। তাঁর এই নারী-বিদ্বেষী আচরণ বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেই দেখা গিয়েছে। তাঁর উপযুক্ত শাস্তির প্রয়োজন।”
এদিকে তাঁর এই অভিযোগ যে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে গতকালে তিনি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চিঠিতে লিখেছিলেন যে, “আমি অত্যন্ত অত্যন্ত দুঃখ এবং উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন পদসহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ, কমিটি আর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। পাশাপাশি তিনি সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ঘটা আরজি কর ঘটনা থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে মন্তব্য করেন। একেবারে দলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়ে তিনি সমস্ত পদ ছাড়েন। আর এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে তাঁর শাস্তির দাবি জানিয়েই চিঠি পাঠালেন লোকসভার স্পিকারের কাছে।
