Sanjay Gayen, Kolkata: বুধবার নবান্ন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম (Annapurna Bhandar) পূরণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খুঁটিনাটি তথ্য জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কারা পাবেন আর কাদের নাম বাদ যাবে, এই নিয়ে একাধিক শর্তের কথা জানিয়েছিলেন। এছাড়াও সরকারি আধিকারিকরা ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম পূরণের কাজে নাকি নিয়োগ করা হবে শিক্ষকদের। আর এবার তারই বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন শিক্ষকেরা।

ফর্ম পূরণে যুক্ত করা হবে শিক্ষকদের?
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বুধবার নবান্ন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে, আগামী ১ জুন থেকে টানা ৯০ দিন ধরে চলবে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া। অনলাইন এবং অফলাইনে ফর্ম পূরণ করা যাবে। যাঁরা অনলাইন বা অফলাইন, কোনওভাবেই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। সাহায্য করবেন এলাকার বিধায়কেরাও। কিন্তু শোনা যাচ্ছে এই কাজে নাকি শিক্ষক শিক্ষিকাদের যোগ করা হচ্ছে। এদিকে গত নভেম্বর থেকে SIR-এর কাজ থেকে শুরু করে বিধানসভা নির্বাচনের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল স্কুলের শিক্ষকদের। আর তাতেই এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সকলে।
মুখ্যসচিবকে চিঠি শিক্ষকদের
বরাবরই স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতি থেকে গিয়েছে, তার উপর সরকারি নানা কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করায় পড়ুয়াদের শিক্ষায় নানা ব্যাঘাত ঘটছে। এই অবস্থায় ফের আরও এক সরকারি কাজে শিক্ষকদের যুক্ত না করার দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে গতকাল অর্থাৎ বুধবার ই-মেল করল এক শিক্ষক সংগঠন। জানানো হয়েছে একমাত্র নির্বাচন ছাড়া শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত নয়, এ রকম কোনও কাজের সঙ্গে যেন BLO-দের যুক্ত না করা হয়। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘শিক্ষকদের প্রধান কাজ শিক্ষকতা করা। তার পাশাপাশি নির্বাচনের কাজেও যুক্ত করা হয়। সেটা আমরা করে আসছি। কিন্তু এর পরে কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, শিক্ষকতা কখন হবে?’’
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের তরফে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম পূরণের কাজে BLO-দের যুক্ত করা হতে পারে। এমনকি উত্তরবঙ্গের একটি জেলার BDO এই ফর্মপূরণের জন্য সরাসরি BLO-দের যুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। আর তাতেই শিক্ষক মহলে উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে। এখনও মুখ্যসচিবের তরফে কোনো উত্তর মেলেনি। এখন দেখার শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।
