সঞ্জয় গায়েন – কলকাতা :- নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু কলকাতার নয়, সমগ্র পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই বিমানবন্দরে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। ক্রমবর্ধমান এই চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এবার সম্পূর্ণ নতুন সাজে সেজে উঠতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দর। আধুনিক যুগের চাহিদাকে মাথায় রেখে পরিকাঠামোগত এই বিরাট পরিবর্তন যে আগামী দিনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কলকাতা বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত রূপরেখা
উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক—উভয় ক্ষেত্রেই যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎসবের মরসুম বা ছুটির দিনগুলোতে টার্মিনালের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। ব্যাগেজ বেল্টে দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে শুরু করে সিকিউরিটি চেকিংয়ের লম্বা লাইন—সব মিলিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হিসেবেই এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) পরিকাঠামো উন্নয়নের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছে।
কী কী বদল আসছে?
নতুন এই মেগা প্রজেক্টের আওতায় যে বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের সম্প্রসারণ: নতুন ব্লক তৈরির মাধ্যমে টার্মিনালের আয়তন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে একসঙ্গে আরও অনেক বেশি সংখ্যক যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন।
- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: চেক-ইন কাউন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ইনলাইন ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম’ এবং স্বয়ংক্রিয় বোর্ডিং গেট। এর ফলে যাত্রীদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই কমবে লাগেজ সংক্রান্ত হয়রানি।
- উন্নত যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: যাত্রীদের অপেক্ষার সময়টুকু আরও আরামদায়ক করে তুলতে লাউঞ্জগুলোর সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে। গড়ে তোলা হচ্ছে উন্নত মানের শপিং এরিয়া এবং মাল্টি-কুইজিন ফুড কোর্ট।
- এটিসি ও রানওয়ের উন্নয়ন: এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং রানওয়ের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর ফলে একই সময়ে আরও বেশি বিমান ওঠানামা করতে পারবে।
অত্যাধুনিক চেক-ইন এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ ব্যবস্থা

বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত
একটি শহরের বিমানবন্দর মূলত সেই শহরের অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিচ্ছবি বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। কলকাতা বিমানবন্দরের এই ভোলবদল শুধুমাত্র সাধারণ যাত্রীদেরই সুবিধা করবে তা নয়, রাজ্যের পর্যটন শিল্প ও বাণিজ্যেও এক নতুন জোয়ার আনবে। উন্নত পরিকাঠামোর কারণে আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থার আগ্রহ বাড়বে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং পর্যটকদের কাছে শহরের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
কলকাতার মুকুটে এই নতুন পালক যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় এখন শহরবাসী। আশা করা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোগত উন্নতির হাত ধরে কলকাতা বিমানবন্দর খুব দ্রুতই দেশের তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমানবন্দরগুলোর সারিতে নিজের পাকা জায়গা করে নেবে। বদলে যাওয়া এই ছবি বাংলার উন্নয়নের যাত্রাপথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
