বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর যখনই বসে, ফুটবল প্রেমীদের চোখ থাকে লিয়োনেল মেসির দিকে। তবে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল কিছুটা ভিন্ন—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান আর নতুন করে ইতিহাস গড়ার অঙ্গীকার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের এই জয় কেবল তিন পয়েন্টের প্রাপ্তি নয়, এটি লিয়োনেল মেসির ক্যারিয়ারের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক।

২০০৬ সালে শুরু হওয়া যে যাত্রা দুই দশক ধরে ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য জাদুকরী মুহূর্ত, সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন মেসি। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে তিনি শুধু গোলই করেননি, বরং প্রমাণ করেছেন যে সময়ের স্রোতে তাঁর খেলার ধার এক বিন্দুও কমেনি।
ফুটবলের অমর মহাকাব্য: লিয়োনেল মেসির নতুন উচ্চতা

এই হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলসংখ্যার নিরিখে মেসি এখন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজার সঙ্গে একই সারিতে। ১৬টি গোল—ফুটবল পরিসংখ্যানের এই চূড়ায় আজ মেসি ও ক্লোজা পাশাপাশি। তবে মেসির সামনে সুযোগ এখন একটাই—আর একটি গোল করেই নিজেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে এককভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।
২০২২ সালের সেই দুঃস্বপ্নের হারের রেশ কাটিয়ে এবার এক দাপুটে সূচনা করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মেসি শুধু গোল মেশিন হিসেবেই নন, বরং একজন নেতা হিসেবেও দলের প্রতিটি সুতোয় নেতৃত্ব দিলেন। কোচ লিওনেল স্কালোনি সঠিকভাবেই বলেছেন—তাঁর খেলা বর্ণনা করার মতো ভাষা এখন আর অবশিষ্ট নেই।
মেসির এই অদম্য পারফরম্যান্স কেবল আর্জেন্টিনার ভক্তদেরই নয়, বরং সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ডিফেন্ড করার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা যে কতটা আত্মবিশ্বাসী, মেসির পায়ের এই ছন্দই তার প্রমাণ। এখন প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠবে একেকটি নতুন ইতিহাস গড়ার লড়াই। মেসি কি পারবেন সব রেকর্ড ভেঙে ফুটবল সিংহাসনে একক রাজত্ব কায়েম করতে? উত্তরটা সময়ের হাতে, তবে আজকের এই রাত নিশ্চিতভাবেই মেসি ভক্তদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

আগামী ম্যাচগুলোতে মেসি কি পারবেন এই রেকর্ড ভেঙে এককভাবে সর্বকালের সেরা গোলদাতা হতে? উত্তরটা সময়ের গর্ভে, তবে আজ কানসাস সিটির আকাশ যেন মেসির নামের জয়গানেই মুখরিত। ফুটবলের এই রাজকীয় যাত্রার পরবর্তী মোড় দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো পৃথিবী।
