লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিলের চেয়েও বড় আতঙ্ক—ফ্ল্যাটের ভেতরে লুকিয়ে ছিল প্রায় ৪ মিটার দীর্ঘ বিরল অ্যালবিনো পাইথন।
Edited bt; Supriya Paul
Updated at ; 26 jun.2026
একটি অস্বাভাবিক ‘হিস-হিস’ শব্দ ঘিরে শুরু হয় আতঙ্ক। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও, শব্দটি ক্রমশ বাড়তে থাকায় তারা জরুরি সেবা বিভাগে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এমন এক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়, যা দেখে অভিজ্ঞ কর্মকর্তারাও মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে যান।
উদ্ধার অভিযানে ধরা পড়ে একটি বিরল অ্যালবিনো রেটিকুলেটেড পাইথন। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.২৬ মিটার এবং ওজন প্রায় ৩০ কিলোগ্রাম। বিশাল আকৃতির এই পাইথনটি উদ্ধার করতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের প্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগেছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথমে সাপটি একটি গর্তের মধ্যে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। ফলে উদ্ধার অভিযান কিছুটা কঠিন হয়ে ওঠে। পরে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে নিরাপদভাবে সাপটিকে বের করে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়ার পর সেটিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অ্যালবিনো রেটিকুলেটেড পাইথন। অ্যালবিনো হওয়ার কারণে এর শরীরে কালো রঞ্জক (মেলানিন) থাকে না, ফলে এর গায়ে সাদা ও হলুদ রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। এ ধরনের সাপ অত্যন্ত বিরল এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজে দেখা যায় না।
রেটিকুলেটেড পাইথন পৃথিবীর দীর্ঘতম সাপগুলোর মধ্যে অন্যতম। পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় এদের দৈর্ঘ্য ২০ ফুটেরও বেশি হতে পারে। যদিও এরা বিষধর নয়, তবে শক্তিশালী পেশীর সাহায্যে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে সক্ষম। তাই এ ধরনের সাপের কাছাকাছি যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানুষের বসতি এলাকায় খাবারের সন্ধান, নিরাপদ আশ্রয় অথবা পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে বড় আকারের সাপ ঢুকে পড়তে পারে। তাই কোথাও বড় সাপ দেখা গেলে নিজে ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত বন দফতর বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিশাল আকৃতির অ্যালবিনো পাইথন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ মানুষের বসতিতে বন্যপ্রাণীর প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন।
