প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা যাবে না অনুব্রত মণ্ডলকে? আদালতে NIA-র বিস্ফোরক দাবি, নতুন মোড় মামলায়

Edited by: Supriya paul

Updated at ; 16 june 2026

গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক সামনে এল। আদালতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দাবি করেছে, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে অনুব্রত মণ্ডলকে রাখা নিরাপদ নয় এবং সেখানে থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, গ্রেফতারের সময় থেকেই তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন না।

NIA সূত্রের দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব এতটাই বেশি যে প্রেসিডেন্সি জেলে থাকলে সাক্ষী বা মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের উপর প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই কারণেই তাঁকে অন্য কোনও সংশোধনাগারে স্থানান্তরের আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে আদালতে NIA-র নতুন দাবি, ফের আলোচনার কেন্দ্রে গরু পাচার মামলা।”

কী বলছে NIA?

আদালতে দাখিল করা রিপোর্টে NIA জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে দাবি সংস্থার। তদন্তকারীদের মতে, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

অনুব্রত পক্ষের দাবি

অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবীরা NIA-র এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অনুব্রত মণ্ডল আইন মেনেই তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ আনা হচ্ছে। জেল পরিবর্তনের আবেদনও অযৌক্তিক বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

পশু পাচার মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (CBI) এবং পরে NIA-ও মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেফতারি এবং আদালত চত্বরে আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি বিবেচনার জন্য রেখেছে। আগামী শুনানিতে অনুব্রত মণ্ডলের জেল পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা

NIA-র এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরলেও শাসকদল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *