জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বদলের প্রভাব নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
By : Supriya
Updated at : 8 jul 2026
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া দুটি ছবিকে ঘিরে ফের আলোচনায় জম্মু ও কাশ্মীরের পবিত্র অমরনাথ গুহা। একটি ছবিতে ১৯৯৯ সালের বিশাল আকৃতির প্রাকৃতিক বরফলিঙ্গ (বাবা বরফানি) দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ছবিতে সেই বরফলিঙ্গের আকার তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট বা প্রায় গলে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়। এই পরিবর্তন ঘিরে ভক্তদের মধ্যে যেমন আবেগ তৈরি হয়েছে, তেমনই পরিবেশবিদদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
অমরনাথ গুহায় প্রতিবছর স্বাভাবিকভাবে বরফ জমে শিবলিঙ্গের আকৃতি তৈরি হয়, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘বাবা বরফানি’ নামে পূজিত। বরফলিঙ্গের আকার প্রতি বছর আবহাওয়া, তাপমাত্রা, তুষারপাত এবং গুহার অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ফলে এক বছরের সঙ্গে অন্য বছরের আকারের পার্থক্য অস্বাভাবিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত চাপের কারণে বরফলিঙ্গ আগের তুলনায় দ্রুত গলে যাচ্ছে। ২০২৫ সালেও যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই বরফলিঙ্গের বড় অংশ গলে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। পরিবেশবিদদের একাংশের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি, প্লাস্টিক দূষণ এবং মানবসৃষ্ট চাপও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রার আগে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ছবিতেও দেখা গেছে, বরফলিঙ্গ এখনও বিদ্যমান থাকলেও তার আকার আগের তুলনায় কিছুটা ছোট হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর বরফলিঙ্গের আকার নির্ভর করে এবং যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তবে ভাইরাল হওয়া ১৯৯৯ ও ২০২৬ সালের ছবির সরাসরি তুলনা করে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। কারণ, দুটি ছবি বছরের ভিন্ন সময়ে তোলা হতে পারে এবং সেই সময়ের আবহাওয়াগত অবস্থাও আলাদা থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র ছবি দেখে বরফলিঙ্গ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য বর্তমানে নেই।
অমরনাথের ‘বাবা বরফানি’ শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীক নয়, বরং হিমালয়ের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জলবায়ুর পরিবর্তনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। তাই এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে পরিবেশ রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই তীর্থযাত্রা ব্যবস্থাপনার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।
