নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণীর দেহ, রক্তাক্ত লিভ-ইন সঙ্গী; খুনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

By : Supriya Paul

Updated at : 21 jul 2026

নিউ টাউনের একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি ঘর থেকে কবজিতে গভীর ক্ষতসহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীকে। তরুণীর মৃত্যুর পর ওই যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, নাকি ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখছে নিউ টাউন থানার পুলিশ।

মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ বছর বয়সি তৃষা উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের বাসিন্দা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীর নাম সৌভিক রায়, বয়স ২৯ বছর। সৌভিকের বাড়ি নৈহাটিতে। গত প্রায় চার মাস ধরে তাঁরা নিউ টাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকার একটি আবাসনের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে ঘটনার খবর পেয়ে ওই আবাসনে পৌঁছন তদন্তকারীরা। ফ্ল্যাটের ভিতরে তৃষাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য একটি ঘরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন সৌভিক। তাঁর দুই কবজিতে গভীর ক্ষত ছিল। তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত প্রায় ৯টা নাগাদ সৌভিক বাড়ির মালিককে ফোন করে তৃষার মৃত্যুর কথা জানান এবং পুলিশে খবর দিতে বলেন। বাড়ির মালিক ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পর একাধিকবার ডাকাডাকিতে সৌভিক দরজা খুলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে।

ঘটনাটি প্রথমে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তৃষার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁর পা-সহ শরীরের কয়েকটি অংশে চোটের দাগ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ফলে মৃত্যুর আগে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল কি না এবং পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তের এই পর্যায়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের অনুমান, আহত অবস্থায় সৌভিক তৃষার ঝুলন্ত দেহ ধরেছিলেন বা তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেই কারণেই তৃষার পায়ে রক্তের দাগ লেগে থাকতে পারে। যদিও এটি এখনও কেবল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং ফরেন্সিক পরীক্ষায় বিষয়টি যাচাই করা হবে।

আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের দাবি, ওই যুগল সাধারণত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া বা অশান্তির কোনও শব্দ তাঁরা আগে শোনেননি। আচমকা এমন ঘটনায় আবাসনের বাসিন্দারাও বিস্মিত।

তৃষার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং শরীরের আঘাতগুলি কখন ও কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। সৌভিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক নমুনা, চিকিৎসকদের রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য মিলিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ সময়রেখা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে। এটি আত্মহত্যার ঘটনা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, নাকি হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা—ময়নাতদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *