ভারতীয় ক্রিকেটে পরিবর্তনের হাওয়া অনেক দিন ধরেই বইছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা কিংবা রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের যুগের পর নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মুলানপুর টেস্ট তারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারত প্রথম ইনিংসে ৫৬৪/৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ম্যাচের রাশ কার্যত নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। ব্যাট হাতে শুভমন ও ঋষভ পন্থের দুর্দান্ত ইনিংস ভারতের বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। প্রথম দিনের শতরানকে বড় স্কোরে রূপান্তরিত করেন শুভমন, অন্যদিকে পন্থও দায়িত্বশীল এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে আফগান বোলারদের চাপে রাখেন। ভারতীয় ব্যাটারদের ধারাবাহিক অবদানে আফগানিস্তান শুরু থেকেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে।

Source: PTI
তবে দ্বিতীয় দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সম্ভবত ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে। অভিষেক ম্যাচেই বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে নির্বাচকদের আস্থার মর্যাদা রেখেছেন। আফগানিস্তানের টপ অর্ডারকে চাপে ফেলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ভারতের স্পিন ভাণ্ডার এখনও সমৃদ্ধ। এমনকি নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে তিনি বিরল কৃতিত্বও গড়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের স্কোর ১১৩/৫। তারা এখনও ভারতের থেকে ৪৫১ রানে পিছিয়ে। রহমত শাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে আফগান ব্যাটিং বারবার সমস্যায় পড়েছে।
এই ম্যাচ শুধু একটি টেস্ট জয়ের সম্ভাবনার গল্প নয়। এটি ভারতের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটেরও গল্প। শুভমন গিলের নেতৃত্ব, তরুণ ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস এবং মানব সুতারের মতো নতুন মুখের সাফল্য দেখাচ্ছে যে ভারত ধীরে ধীরে নতুন যুগের দিকে এগোচ্ছে।

Source: The Time Express
অবশ্যই আফগানিস্তান এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তব বলছে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণ ভারতের হাতে। তৃতীয় দিনে ফলো-অন করানো হোক বা দ্রুত ম্যাচ শেষ করার পরিকল্পনা— সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় রয়েছে ভারত।
ক্রিকেটে প্রতিটি প্রজন্ম একদিন না একদিন দায়িত্ব হস্তান্তর করে। মুলানপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি হয়তো সেই নতুন অধ্যায়েরই প্রতীক, যেখানে শুভমনের নেতৃত্বে ভারত নিজেদের পরবর্তী স্বর্ণযুগের ভিত্তি গড়ে তুলতে শুরু করেছে।
