দেশের অন্যতম শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজস্থানের কোটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটির অভিযোগ সামনে এসেছে।

কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোচিং সেন্টারের ভবনের একটি অংশে হঠাৎ আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন তলায়। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো ভবন। আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও কর্মীরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও অনেকেই ভিতরে আটকে পড়েন।
খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এল যে অভিযোগগুলি
প্রাথমিক তদন্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে—
- ভবনে পর্যাপ্ত Emergency Exit ছিল না।
- প্রধান দরজার সামনে ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার কারণে বের হওয়ার পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও মহড়ার অভাব ছিল বলে অভিযোগ।
- ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য কোচিং সেন্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
অগ্নি-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনও বাণিজ্যিক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ, কার্যকর ফায়ার অ্যালার্ম, নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সামান্য গাফিলতিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কতটা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে? পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে কি এত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল?
