By : Supriya
Updated at : 5. Aug. 2026
গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে আরও আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর সম্প্রতি একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করেছে, যার মূল লক্ষ্য পঞ্চায়েতের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি। এই নির্দেশিকায় প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে প্রতি পরিবার থেকে বছরে গড়ে ১,২০০ টাকা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, পঞ্চায়েতগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পত্তি কর ও অন্যান্য প্রাপ্য কর সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বকেয়া করদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাঁদের কাছ থেকে কর আদায়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুধু কর আদায়েই নয়, পঞ্চায়েতগুলিকে নিজস্ব আয়ের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যের বহু গ্রাম পঞ্চায়েত এখনও সরকারি অনুদানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। ফলে স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতেই পঞ্চায়েতগুলিকে নিজেদের আয় বাড়ানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এসওপি-তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কর সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার, বাজার, জলাশয়, হাট, কমিউনিটি সম্পদ ও অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামবাসীদের কর প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার জন্য প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, বাড়িপিছু বছরে গড়ে ১,২০০ টাকা রাজস্ব সংগ্রহের এই লক্ষ্য পূরণ করা গেলে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর ফলে রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমবে।
তবে এই নির্দেশিকা নতুন কোনও কর আরোপের ঘোষণা নয়। বরং বিদ্যমান কর কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, কর আদায়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করাই এই এসওপি-র মূল উদ্দেশ্য বলে দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।
