By : Supriya
Updated at : 23 july 2026
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা পড়ুয়া ও যুবকদের বিক্ষোভের মধ্যেই আলোচনায় উঠে এলেন শিক্ষামন্ত্রীর মেয়ে নৈমিষা প্রধান। বিদেশে তাঁর উচ্চশিক্ষা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হওয়ার পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন তিনি।
কেন নৈমিষাকে ঘিরে বিতর্ক?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের একাংশ এবং কয়েকজন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী নৈমিষা প্রধানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুঁজে বার করে তাঁর পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানাতে শুরু করেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর মেয়ে কেন দেশের পরিবর্তে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
নৈমিষা ২০২৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল থেকে মাস্টার অফ লজ বা এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর বিদেশে পড়াশোনার তথ্য সামনে আসতেই কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার উপরে আস্থা না থাকার কারণেই তিনি বিদেশে পড়াশোনা করেছেন। তবে এই দাবি সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বক্তব্য; নৈমিষা বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এমন কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

সমালোচনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নৈমিষার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজমাধ্যমের পোস্টেও অনেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মন্তব্য করেন। এরপর তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর দেখা যায়নি। একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অনলাইন সমালোচনার মধ্যেই তিনি অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন।
পরিবারের সদস্যকে আক্রমণ নিয়ে প্রশ্ন
তবে নৈমিষাকে নিশানা করার বিরোধিতাও করেছেন অনেক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং শিক্ষা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই তাঁর কাজের সমালোচনা বা পদত্যাগের দাবি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অংশ হতে পারে। কিন্তু কোনও সরকারি পদে না থাকা তাঁর মেয়েকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা বা তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো যুক্তিসঙ্গত নয়।
অনেকেই বলেছেন, আন্দোলনের মূল বিষয়—পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি—থেকে নজর সরিয়ে কোনও মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে নিশানা করা উচিত নয়।
কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছেন পড়ুয়ারা?
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির নেতৃত্বে পড়ুয়া-যুবকদের আন্দোলন তীব্র হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দোষীদের শাস্তি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
সংসদ অভিমুখে পড়ুয়াদের মিছিল ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ সামনে আসার পরে আন্দোলনের উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিরোধী দলগুলিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে।
অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের অভিযোগ, বিরোধীরা পড়ুয়াদের সমস্যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে এবং পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তুত। তবে আন্দোলনকারীরা শুধু আলোচনার আশ্বাস নয়, মন্ত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় স্বীকারের দাবি জানাচ্ছেন।
বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
নৈমিষা প্রধানের ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করার ঘটনাটি সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে যুক্ত না হলেও, এই ঘটনা আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রবল সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তাপেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং কোনও জনপ্রতিনিধির পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি পরীক্ষা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে কেন্দ্র—সেটিই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
