Earthquake News:ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া! ধ্বংসস্তূপে চাপা বহু মানুষ

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল। সোমবার, ১০ আগস্ট, শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন হাজার হাজার মানুষ।

মৃতের সংখ্যা শতাধিক

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায়। Cali, Pereira, Quibdó এবং Manizales-সহ একাধিক শহরে ভবন ধসে পড়ার খবর এসেছে। সরকারি হিসাবে প্রায় ১,৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৬১টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে বহু মানুষ

ভূমিকম্পের পর থেকেই ধসে পড়া ভবনগুলির ধ্বংসস্তূপে শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। সেনা, পুলিশ, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল এবং সার্চ ডগ ব্যবহার করে জীবিতদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের খোঁজে হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলির বাইরে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। AP-এর প্রতিবেদনে ২,৭০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় আশার ছবিও সামনে এসেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিশু ও তার মাকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। ফলে এখনও আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ

ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে বহু মানুষ আতঙ্কে বাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন। রাজধানী বোগোটা-তেও কম্পন অনুভূত হয় এবং নিরাপত্তার কারণে বহু মানুষ ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায়। ভূমিকম্পের পর একাধিক aftershock রেকর্ড হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলির কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজের সময়ও সতর্কতা অবলম্বন করছেন কর্মীরা।

জরুরি অবস্থা ঘোষণা

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট Abelardo de la Espriella জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। উদ্ধার, ত্রাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের জেরে কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। রানওয়ে ও বিমানবন্দরগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চলছে।

একবিংশ শতকে কলম্বিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

US Geological Survey-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪ এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কেন্দ্রস্থল ছিল Chocó অঞ্চলের San José del Palmar-এর কাছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি একবিংশ শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

এখনও বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে আসেনি। তাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় মৃত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

এই মুহূর্তে কলম্বিয়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা। উদ্ধারকারীরা রাতভর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *