১০ জুন, ২০২৬

সম্পাদকীয় কলম
আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। তারপরেই উত্তর আমেরিকার মাটিতে পর্দা উঠবে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধের। আর ঠিক তার আগেই নিজেদের প্রস্তুতির শেষ তুলির টান দিয়ে রাখল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের মতো শারীরিক ভাবে শক্তিশালী দলকে কার্যত অনায়াসে হারিয়ে নীল-সাদা ব্রিগেড বুঝিয়ে দিল, শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তারা কতটা মরিয়া। তবে এই প্রস্তুতি ম্যাচেও সমস্ত লাইমলাইট কেড়ে নিলেন সেই একজনই—লিওনেল মেসি। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বমঞ্চের জন্য তাঁর জাদুর ভাণ্ডার এখনও কানায় কানায় পূর্ণ।
বয়সের ভ্রুকুটি উড়িয়ে তিন মিনিটের ম্যাজিক
ফুটবল মহলে গত কয়েক মাস ধরে একটাই আলোচনা—বয়স কি তবে থাবা বসাচ্ছে এলএমটেন-এর পারফরম্যান্সে? ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি কতটা ফিট থাকবেন? এই সমস্ত জল্পনা আর প্রশ্নের উত্তর মেসি দিলেন তাঁর চেনা ভঙ্গিতে, পায়ের জাদুতে।
প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে প্রথম থেকে নামিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু যখন তিনি মাঠে নামলেন, গ্যালারির গগনভেদী গর্জনের রেশ মেলাতে না মেলাতেই বিপক্ষের জালে বল! মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যে আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে যে গোলটি তিনি করলেন, তা শুধু স্কোরবোর্ডের পরিবর্তন নয়; এটি ছিল গোটা ফুটবল বিশ্বের প্রতি এক স্পষ্ট বার্তা। তাঁর সেই চেনা দৌড়, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নিখুঁত ফিনিশ প্রমাণ করে দিল যে—মেসি প্রস্তুত, আর তাঁর বাঁ পা এখনও আগের মতোই ভয়ঙ্কর।

নিখুঁত দলগত বোঝাপড়া এবং আত্মবিশ্বাস
আইসল্যান্ড এমন একটি দল, যারা মূলত তাদের জমাট রক্ষণ এবং শারীরিক ফুটবলের জন্য পরিচিত। কিন্তু এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনে তারা কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করল। এটি শুধু মেসির একার কৃতিত্ব নয়, বরং গোটা দলের দারুণ বোঝাপড়ার ফসল।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, উইং দিয়ে আক্রমণের গতি এবং রক্ষণের নিশ্চিন্ততা—সব মিলিয়ে এই প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনার জন্য এক নিখুঁত মহড়া। কোচ লিওনেল স্কালোনির ছক যে এখনও কতটা কার্যকর, তা এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন একটি একপেশে জয় দলের তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়—উভয়েরই আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
নজরে ট্রফি ধরে রাখার লড়াই
২০২২ সালে কাতারের মাটিতে যে রূপকথার জন্ম হয়েছিল, ২০২৬-এর মেক্সিকো-আমেরিকা-কানাডাতেও সেই স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি চাইছেন কোটি কোটি সমর্থক। ফুটবল ইতিহাসে পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি খুব বেশি দলের নেই। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা দল এবং তাদের অধিনায়কের যে মানসিকতা, তাতে অসম্ভব বলে কিছুই মনে হচ্ছে না।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে দলের এমন ফর্ম এবং অধিনায়কের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে প্রতিপক্ষ শিবিরগুলোতে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে। ফুটবল-দেবতার পায়ে বল পড়লে যে এখনও জাদুর সৃষ্টি হয়, আইসল্যান্ড ম্যাচ তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। এবার শুধু মূল মঞ্চে এই ফর্ম ধরে রাখার পালা। বিশ্ব ফুটবল আরও একবার প্রস্তুত জাদুকরের মন্ত্রমুগ্ধ করা পারফরম্যান্স দেখার জন্য। শুরু হোক বিশ্বযুদ্ধের দামামা!
