Updated at : 10 .Aug. 2026
কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে বড়সড় বিপত্তি। বিমানের ককপিটে আচমকা লেজার লাইটের ঝলক। তীব্র আলোয় সাময়িকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েন পাইলট। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অবতরণ না করে বিমানকে ফের আকাশে চক্কর দিতে হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। Kuala Lumpur থেকে কলকাতার উদ্দেশে আসা Malaysia Airlines-এর MH-184 বিমানটি যখন কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে, তখনই ককপিটের দিকে তীব্র লেজার আলো দেখা যায়। বিমানটিতে তখন ১৫৯ জন যাত্রী এবং ৭ জন কেবিন ক্রু ছিলেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ Madhyamgram-Barasat দিক থেকে আসা একটি উজ্জ্বল লেজার রশ্মি বিমানের ককপিটে পড়ে। আচমকা ওই তীব্র আলোয় পাইলটের দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হয় এবং তিনি সাময়িকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিমানটি তখনই অবতরণ না করে আকাশে চক্কর দিতে শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের অবতরণের চেষ্টা করা হয়। প্রায় পাঁচ মিনিট পর, রাত ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ বিমানটি নিরাপদে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রী এবং ক্রু—সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
কেন এতটা বিপজ্জনক লেজার লাইট?
বিমানের টেক-অফ এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় পাইলটদের দৃষ্টিশক্তি ও মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় ককপিটে শক্তিশালী লেজার আলো পড়লে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, চোখে তীব্র ঝলক তৈরি হতে পারে এবং পাইলটের বিমান নিয়ন্ত্রণ ও রানওয়ের দিকে নজর রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই কারণেই বিমানবন্দরের আশপাশে এ ধরনের লেজার ব্যবহারকে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।
পুলিশের কাছে অভিযোগ
ঘটনার পর কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছে। লেজার রশ্মিটি ঠিক কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটু এদিক-ওদিক হলেই যে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারত, এই ঘটনা ফের সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিল—বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নিষিদ্ধ লেজার ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কড়া নজরদারি কি প্রয়োজন?
