যাদবপুরে রাতভর অশান্তি, ‘এত ভয় থাকলে ছাত্রভোট ঘোষণা করুন’, পাল্টা সৃজনের

Updated at : 20 Aug 2026

জেনারেল বডি মিটিংকে কেন্দ্র করে বুধবার গভীর রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ক্যাম্পাসে আগুন জ্বালানো, ইট-পাথর ছোড়া এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা FETSU-র একটি জেনারেল বডি মিটিংকে ঘিরে। ওই বৈঠক ডাকার এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তোলে ABVP। এরপর ABVP-র সমর্থকদের সঙ্গে SFI-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্যদের বচসা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ABVP-র অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন সমর্থকের উপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পাল্টা অভিযোগ, ABVP বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষের মধ্যে ইট-পাথর ছোড়া, আগুন জ্বালানো এবং ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। দুই পক্ষেরই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির কয়েকজন পড়ুয়া নিজেদের মধ্যে সভা করছিলেন। সেই সময় ABVP-র কয়েকজন সেখানে ঢুকে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সৃজনের দাবি, সেই সময় সেখানে SFI-র কেউ উপস্থিত ছিল না।

পাশাপাশি যাদবপুরের বিধায়িকার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সৃজন। তাঁর বক্তব্য, যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আপত্তি থাকে, তাহলে ছাত্রভোট ঘোষণা করা হোক। তাঁর কথায়, ‘এত ভয় থাকলে ছাত্রভোট ঘোষণা করুন।’ রাতের অশান্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাতের ঘটনায় ABVP-র কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ABVP-র পক্ষ থেকে যাদবপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে জানা গিয়েছে।

অশান্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গেট ধাক্কানো, পাথর ছোড়া এবং ছাত্র সংগঠনগুলির পোস্টার-ফেস্টুনে আগুন ধরানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

ঘটনার জেরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের সামনে এসেছে ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে পুরনো বিতর্ক। এখন মূল প্রশ্ন—এই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেয়। অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *