Updated at : 20 Aug 2026
উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে এক বিচারকের পরপর একাধিক মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। মাত্র চার মাসের মধ্যে ১০টি মামলায় মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবি কুমার দিবাকরের আদালত থেকে প্রায় ১০০টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলাগুলির মধ্যে হত্যা এবং এমন একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে, যেগুলিতে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর সাজা হতে পারে। মামলাগুলি মুজফ্ফরনগরের জেলা ও দায়রা বিচারক বীরেন্দ্র কুমার সিংয়ের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি আইনজীবীর সূত্রে জানা গেছে।
কেন এত আলোচনা?
রবি কুমার দিবাকর ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মুজফ্ফরনগরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তাঁর আদালত থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১০টি মামলায় মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ১৩ আগস্ট একটি ১২ বছরের পুরনো খুনের মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১২ আগস্ট ১৯৯৯ সালের মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও হত্যার মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও ২০১১ সালের কৃষক খুন, কর্তব্যরত হোমগার্ড হত্যার মামলা এবং ২০১৯ সালের অপহরণ ও খুনের মামলাতেও মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
‘Rarest of Rare’ নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের আইনে মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত ব্যতিক্রমী শাস্তি। আদালত সাধারণত ‘rarest of rare’ নীতির ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনা করে। রবি কুমার দিবাকরের একাধিক রায়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধকে এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক রায়গুলির সংখ্যা নিয়ে তাই আইনজীবী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র একটি আদালত থেকে মামলা সরানো হয়েছে বলেই ওই বিচারকের কোনও রায় ভুল বা বেআইনি ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের আইনি সুযোগ রয়েছে এবং প্রতিটি মামলার বিচারযোগ্যতা ও প্রমাণ আলাদাভাবে বিবেচিত হয়।
৯৭ মামলা প্রত্যাহারের খবর
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবি কুমার দিবাকরের আদালতে থাকা ৯৭টি বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার ফাইল প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এগুলির মধ্যে হত্যা-সহ গুরুতর অপরাধের মামলাও রয়েছে। মামলাগুলি অন্য আদালতে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু রায় নয়, নিরাপত্তা নিয়েও খবরের শিরোনামে বিচারক
এর মধ্যেই বিচারক রবি কুমার দিবাকরকে ঘিরে আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। তিনি উত্তরপ্রদেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি বা তাঁকে না জানিয়ে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গানার পরিবর্তন করা হয়েছে। পরে মুজফ্ফরনগর পুলিশ জানায়, ওই নিরাপত্তাকর্মী ছুটিতে ছিলেন এবং তাঁর পরিবর্তে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
কে এই রবি কুমার দিবাকর?
লখনউয়ের বাসিন্দা রবি কুমার দিবাকর ২০০৯ সালে আজমগড়ে অতিরিক্ত সিভিল জজ হিসেবে বিচারবিভাগীয় কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সুলতানপুরে সিভিল জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে বারাণসীর জ্ঞানবাপী परिसरে ভিডিওগ্রাফিক সার্ভের নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি জাতীয় স্তরে আলোচনায় এসেছিলেন।
অর্থাৎ, এখন মূল প্রশ্ন—একদিকে চার মাসে ২২টি মৃত্যুদণ্ডের রায়, অন্যদিকে প্রায় ১০০টি গুরুতর মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তর। এই সিদ্ধান্তের পিছনে প্রশাসনিক কারণ কী, আর বিচারকের একের পর এক কঠোর রায় নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার ভবিষ্যৎই বা কী—সেদিকেই এখন নজর আইনজীবী মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
