BRICS-এ ঢোকার মরিয়া চেষ্টা পাকিস্তানের! চিনের সমর্থন, ভারতের অবস্থানেই আটকে ইসলামাবাদের স্বপ্ন

BRICS-এর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ২০২৩ সালেই এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল ইসলামাবাদ। এবার ভারতের মাটিতে BRICS-এর ২০২৬ সালের শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে পাকিস্তানের সদস্যপদের বিষয়টি ফের আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের এই উদ্যোগের পিছনে মূলত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের স্বার্থই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। BRICS-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চে জায়গা পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ নতুন সুযোগ পেতে পারে। একইসঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর রাজনীতিতেও নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তান।

ইসলামাবাদের আবেদনের ক্ষেত্রে চিনের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও চিনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে এবং BRICS-এ পাকিস্তানের প্রবেশের পক্ষে বেজিংয়ের সমর্থনের খবর সামনে এসেছে। রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও চালিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে শুধু চিন বা রাশিয়ার সমর্থন পেলেই পাকিস্তানের BRICS সদস্যপদ নিশ্চিত হচ্ছে না।

কারণ, BRICS-এর সম্প্রসারণে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেখানেই পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বাধা ভারত। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েনের কারণে ইসলামাবাদের আবেদন সহজে অনুমোদন পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে পাকিস্তানের BRICS-এ যোগদানের প্রচেষ্টাকে শুধুমাত্র ‘ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল’ হিসেবে দেখাও পুরোপুরি সঠিক হবে না। অর্থনৈতিকভাবে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোও ইসলামাবাদের বড় লক্ষ্য। একইসঙ্গে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে BRICS-এর মতো মঞ্চে প্রবেশ করতে পারলে পাকিস্তান আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পেতে পারে।

বর্তমানে BRICS-এ ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে এবং ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে জোটের কার্যক্রম চলছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আবেদন নিয়ে ভারত, চিন ও অন্যান্য সদস্য দেশের অবস্থান আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থাৎ, পাকিস্তানের BRICS-এ ঢোকার আগ্রহ নতুন নয়। কিন্তু চিনের সমর্থন থাকলেও ভারতের সম্মতি ছাড়া সেই দরজা খোলা কতটা সম্ভব, সেটিই এখন ইসলামাবাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *