Updated at: 11.09.2026
নয়াদিল্লি: দিল্লির চাঁদনি চকের বিখ্যাত কূচা মহাজনি জুয়েলারি মার্কেটে বড়সড় অভিযান চালাল দিল্লি পুরসভা (MCD)। বৃহস্পতিবার একসঙ্গে ৫৪টি দোকান সিল করে দেওয়া হয়েছে। MCD-র দাবি, ওই দোকানগুলির একাংশ অনুমোদনহীনভাবে বেসমেন্টে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। মাস্টার প্ল্যান-২০২১ এবং Unified Building Bye-Laws-এর নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে পুরসভা।

জানা গিয়েছে, কূচা মহাজনির একাধিক বিল্ডিংয়ে থাকা বেসমেন্টের দোকানগুলিতে মূলত সোনা-রুপোর গয়না ও বুলিয়ন ব্যবসা চলত। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ MCD-র দল সেখানে পৌঁছে একসঙ্গে দোকানগুলিতে সিল লাগানোর কাজ শুরু করে। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ Monitoring Committee/Supreme Court-এর নির্দেশের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
এদিকে দোকান সিল হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সিল করা দোকানগুলির ভিতরে কোটি কোটি টাকার সোনা, রুপোর গয়না এবং বুলিয়ন আটকে রয়েছে। ফলে ব্যবসার পাশাপাশি বিপুল মূল্যের সম্পত্তি নিয়ে তাঁরা চিন্তায় পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের পর্যাপ্ত সময় বা আগাম সুযোগ না দিয়েই আচমকা এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, কয়েকটি দোকানে যে নোটিস লাগানো হয়েছিল, তার তারিখ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে MCD-র বক্তব্য, বেসমেন্টের অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় দমকলসহ অন্যান্য বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র না থাকার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুরসভার এই অভিযান এমন সময়ে হল, যখন দিল্লিতে বেআইনি নির্মাণ ও বিপজ্জনক ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সত্য নিকেতন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে ৭ জনের মৃত্যু হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ও বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি বেড়েছে। তবে MCD জানিয়েছে, কূচা মহাজনির এই সিলিং অভিযানটি আগের Monitoring Committee-র নির্দেশের ভিত্তিতেই করা হয়েছে।
ফলে এখন বড় প্রশ্ন—সিল করা দোকানগুলির ভিতরে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না কীভাবে ব্যবসায়ীরা ফেরত পাবেন এবং কবে খুলবে দোকানগুলি। বিষয়টি নিয়ে পুরসভা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
