ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ রাজধানী, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে ১০ হাজার ছাড়িয়ে—আশঙ্কা USGS-এর

Edited by; Supriya Paul

Updated at; 25.jun.2026

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৭.২ মাত্রার এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর ৭.৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে মোরোন (Morón) এলাকার কাছে।

ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার। আহত হয়েছেন ৭০০-রও বেশি মানুষ। তবে USGS-এর প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভবনের অবস্থা বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজারেরও বেশি হতে পারে। এটি কোনো নিশ্চিত সংখ্যা নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি-অনুমান।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারাকাস, লা গুয়াইরা (La Guaira), বারুতা (Baruta)চাকাও (Chacao) এলাকা। বহু বহুতল ভবন, আবাসিক বাড়ি, হোটেল ও সরকারি স্থাপনা ধসে পড়েছে। রাজধানীর প্রধান সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রো পরিষেবা, রেল যোগাযোগ এবং অনেক সড়কও বন্ধ রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা অনেক এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, দমকল, উদ্ধারকারী দল এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে না ঢোকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পরবর্তী কয়েক দিন আরও আফটারশকের (পরবর্তী কম্পন) আশঙ্কা রয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঝুঁকি এখনও কাটেনি।

বিশ্বের একাধিক দেশ ভেনেজুয়েলাকে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *