পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আজ (২৯ জুন) পেশ করা হচ্ছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিমধ্যেই ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, ভাঙচুর, দখলদারি, চাঁদাবাজি, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো ঘটনাগুলি রুখতেই এই কঠোর আইন আনা হচ্ছে।

কোন কাজকে বলা হচ্ছে ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’?
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কর্মকাণ্ডকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ (Anti-Social Activity) হিসেবে গণ্য করা হতে পারে—
- জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা।
- জনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করা।
- সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তিতে ব্যাপক ভাঙচুর বা ক্ষয়ক্ষতি করা।
- জোরপূর্বক জমি বা সম্পত্তি দখল করা।
- ব্যবসা, বাণিজ্য বা পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করা।
- সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি বা অপরাধচক্র পরিচালনা করা।
- অবৈধ খনন, বালু উত্তোলন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অবৈধ কার্যকলাপের মাধ্যমে সরকারি ক্ষতি করা।
কাদের ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে?
বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও আলাদা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যাঁরা—
- সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা সিন্ডিকেট পরিচালনা বা অর্থ জোগান দেন,
- বারবার সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন,
- অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক বা মানব পাচার সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত,
- অথবা আইনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচিত,
তাঁদের এই আইনের আওতায় আনা হতে পারে।

ধরা পড়লে কী শাস্তি?
প্রস্তাবিত বিলে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—
- বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention) করা যেতে পারে।
- সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা নিলাম করার বিধান থাকতে পারে।
- নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে নির্বাসিত (Externment) করার ক্ষমতাও প্রশাসনকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
- আটকাদেশ পর্যালোচনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বা বর্তমান উচ্চ আদালতের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
কেন আনা হচ্ছে এই বিল?
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সরকারি দফতরের উপর হামলা, ভাঙচুর ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। বর্তমান আইনে এসব মোকাবিলা করা যথেষ্ট নয় বলেই আরও কঠোর আইন প্রয়োজন হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই বিলের কিছু বিধান উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর অনুরূপ আইনের ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিল কার্যকর হলে প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে আসবে এবং বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন আটক রাখার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিলটি আজ বিধানসভায় পেশ হওয়ার কথা। আলোচনা ও ভোটাভুটির পর তা পাস হলে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন ও কঠোর আইনি কাঠামো কার্যকর হতে পারে।
