Updated at : 9 jul 2026
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা খুনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার জেরে পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং গণপিটুনির ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। রাতভর তল্লাশি অভিযানে আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করার পর এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা এক যুবককে সন্দেহের বশে গণপিটুনি দেয়, যার মৃত্যু হয়। পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রাস্তায় অবরোধ, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ১৮ জনকে গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, গণপিটুনি, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর এবং অবরোধ-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত আরও অনেকের পরিচয় মিলেছে এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। প্রশাসনের দাবি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, বারুইপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
