By Paushali Saha
Updated on : 11 July 2026
পশ্চিমবঙ্গে বহুদিনের টানাপোড়েনের পর কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY) চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আবহেই শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের এক প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পাবেন না বা কোনও কারণে এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার পৃথক একটি স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্প চালু করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পেও পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের লক্ষ্য একটাই—কোনও মানুষ যেন শুধুমাত্র প্রকল্পের যোগ্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন। তিনি বলেন, যাঁরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় থাকবেন। আর যাঁরা বাদ পড়বেন, তাঁদের জন্য রাজ্য নিজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে একই ধরনের আর্থিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
এই ঘোষণা রাজনৈতিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সামাজিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকলেও আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মতপার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ছিলেন। এখন দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বহু পরিবার উপকৃত হতে পারে।
তবে প্রশ্নও কম নয়। নতুন প্রকল্পের আওতায় ঠিক কারা থাকবেন? আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে? কোন কোন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা কার্যকর হবে? স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে নতুন প্রকল্পের সম্পর্ক কী?—এই সমস্ত বিষয়ে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভারতের মতো দেশে একটি বড় অসুস্থতা মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় শেষ করে দিতে পারে। সেই কারণে স্বাস্থ্যবিমা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। প্রকল্পের নাম যাই হোক, নাগরিকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রয়োজনে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া।
সরকারের এই ঘোষণাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই ধরা যায়। তবে শুধু ঘোষণা নয়, তার দ্রুত বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ উপভোক্তা নির্বাচন, হাসপাতালের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং সহজ দাবি নিষ্পত্তির ব্যবস্থাই প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করবে।
স্বাস্থ্যসেবা কখনও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় হওয়া উচিত নয়। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের বিকল্প স্বাস্থ্যসুরক্ষা—দুই ব্যবস্থাই যদি মানুষের কল্যাণে সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে তার সবচেয়ে বড় লাভবান হবেন সাধারণ মানুষ। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের নাম নয়, একজন অসুস্থ মানুষের সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
