চন্দ্রনাথ রথ খুনে জড়িত বিজেপিকর্মীও? বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ, ‘যদি…’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

By: Supriya

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখনও অব্যাহত। মধ্যমগ্রামে গুলিতে চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর পর থেকেই খুনের নেপথ্যে কারা, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে বিজেপির অন্দরে থাকা ‘সমাজবিরোধী’ বা অপরাধীদের নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। হামলার সময় তাঁর গাড়ি আটকে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। ঘটনায় গাড়ির চালকও আহত হন। পুলিশ ইতিমধ্যেই হামলার ধরন, ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইক এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখেছে।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজনীতির সঙ্গে হিংসা ও সমাজবিরোধীদের যোগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির নাম ব্যবহার করে কোনও অপরাধী বা সমাজবিরোধী সক্রিয় হলে দল তা বরদাস্ত করবে না। বরং দলের ভিতরে এমন লোক ঢোকার চেষ্টা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে কি বিজেপির কোনও কর্মী বা সমর্থকের যোগ রয়েছে? এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তদন্ত-তথ্যে এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে সরাসরি চন্দ্রনাথ-খুনে বিজেপিকর্মীর যোগের স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তদন্তভার নেয়। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল—হামলাকারীদের পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনও বড় চক্রান্ত বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।

চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নির্বাচনের ফল ও রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের আবহে তাঁর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বিজেপি নেতৃত্ব প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করে এসেছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং নেপথ্যের ব্যক্তিদের নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

ফলে দিলীপ ঘোষের ‘যদি’ মন্তব্য নতুন করে যে প্রশ্ন সামনে আনছে, তা হল—দলীয় পরিচয় যাই হোক, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই কি একইভাবে কঠোর পদক্ষেপ হবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল। আর তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি থেকেই পরিষ্কার হতে পারে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আসলে কারা ছিল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *