Edited bt; Supriya paul
Updated at; 16.06.2026
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত হারে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষক, আবহাওয়াবিদ এবং প্রশাসনের মধ্যে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ফলে খরা পরিস্থিতির আশঙ্কা, জলসংকট এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি কিছু অঞ্চলে ধীরগতির হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন আবহাওয়াগত পরিবর্তনও বৃষ্টির ওপর প্রভাব ফেলছে।

কোথায় বেশি প্রভাব পড়ছে?
পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। কৃষি নির্ভর এলাকাগুলিতে ধান, ডাল, ভুট্টা ও অন্যান্য খরিফ ফসলের চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কৃষক সংগঠনগুলির দাবি, সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে বীজ বপন এবং চারা রোপণের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জলসংকটের ঝুঁকি বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি চলতে থাকলে জলাধার, নদী ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যেতে পারে। শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রশাসন জল ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চল বর্ষার জলের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

অর্থনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব
ভারতের অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষিনির্ভর। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের ওপরও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষি উৎপাদন কমে গেলে গ্রামীণ অর্থনীতির গতি মন্থর হতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতরের নজরদারি
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। মৌসুমী বায়ুর গতিবিধি এবং নিম্নচাপের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের আকাশে বৃষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা এখনই বড় সংকটে পরিণত না হলেও পরিস্থিতি নজরে রাখার মতো। কৃষি, জলসম্পদ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিপাতই নির্ধারণ করবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে।
