By : Supriya Paul
Updated at : 28 july 2026
রাজধানীর যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে আয়োজিত CJP-র প্রতিবাদ মিছিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগে নতুন মোড়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের সময় কনট প্লেস এলাকায় মোতায়েন এক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স কর্মী অন্তত সাত রাউন্ড পেলেট গুলি চালিয়েছিলেন। তার মধ্যে পাঁচটি রাউন্ড বিক্ষোভকারীদের দিকে লাগে এবং দুটি মাটিতে গিয়ে পড়ে।
কেন হয়েছিল এই বিক্ষোভ?
NEET-সহ একাধিক নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে CJP-র নেতৃত্বে ছাত্র-যুবরা যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নেমেছিলেন। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোনোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পর সংশ্লিষ্ট RAF কর্মী পেলেট গান চালান। তবে গুলি চালানোর আগে ভিড় নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত ধাপ এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা SOP অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের প্রধান বিষয়।
কমপক্ষে তিনজনের পেলেট-আঘাত
এই ঘটনায় কমপক্ষে তিনজনকে হাসপাতালে পেলেটের আঘাত নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন গুরুগ্রামে কর্মরত ২৫ বছরের ইরশাদ শেখ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সি ছাত্র সাহিল লোচাব এবং ‘আউটলুক’ পত্রিকার ২৮ বছর বয়সি এক সাংবাদিক।

সাহিল লোচাবের শরীরের ডান দিক ও চোখে পেলেটের আঘাত লাগে। তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। AIIMS-এর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি স্থিতিশীল থাকলেও দৃষ্টিশক্তির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেছিল দিল্লি পুলিশ
ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশ তা অস্বীকার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাদের কাছে পেলেট গান নেই এবং চলমান আন্দোলনে দিল্লি পুলিশ এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেনি। তবে পরে আহতদের চিকিৎসার নথি এবং RAF-এর অভ্যন্তরীণ লগবুক পরীক্ষা করে পেলেট রাউন্ড ছোড়ার তথ্য সামনে আসে।
এখানে উল্লেখযোগ্য, RAF হল CRPF-এর বিশেষ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী। ভিড় ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের নন-লেথাল বা অপেক্ষাকৃত কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম থাকে। তবে পেলেট গান খুব কাছ থেকে বা শরীরের সংবেদনশীল অংশ লক্ষ্য করে ব্যবহার করলে গুরুতর আঘাত, এমনকি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
কী বললেন CRPF প্রধান?
CRPF-এর ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পরে গোটা ঘটনার একটি ‘পেশাদার পোস্ট-ইভেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করা হবে। কোন পরিস্থিতিতে পেলেট গান চালানো হয়েছিল, কে নির্দেশ দিয়েছিল এবং RAF কর্মীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনেছিলেন কি না—তদন্তে এই সমস্ত প্রশ্ন খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তদন্তে অন্তত এক RAF কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। কোথায় কোথায় পেলেট বা বৈদ্যুতিক শক-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল, অন্য কোনও কর্মী এতে যুক্ত ছিলেন কি না—সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

RAF-এর ব্যবহারে ‘গুরুতর ত্রুটি’র অভিযোগ
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, RAF-এর ইনস্পেক্টর জেনারেল সীমা ধুন্ধিয়া বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ২০ জুলাইয়ের ভিড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে শক্তি প্রয়োগের যে নিয়ম বা ‘ফোর্স গ্রেডিয়েন্ট’, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
দিল্লিতে দায়িত্ব পালনের সময় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পেলেট গান বা Projectile Action Gun, Anti-Riot Gun, বৈদ্যুতিক শক অস্ত্র এবং বৈদ্যুতিক ঢাল ব্যবহার বা কর্মীদের মধ্যে বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পেলেট-আহত এক বিক্ষোভকারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন—ছাত্রদের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছিল? দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিও দাবি করেছে বিরোধী শিবির।
এখন নজর তদন্ত রিপোর্টে
CRPF-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে, পেলেট গান ব্যবহার কোনও ঊর্ধ্বতন নির্দেশে হয়েছিল, নাকি মাঠে থাকা কর্মী নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ব্যবহার করা শক্তি পরিস্থিতির তুলনায় প্রয়োজনীয় ও সমানুপাতিক ছিল কি না এবং SOP লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
