Very nice of him’: বিদ্রোহীদের ফেরার ডাক দিয়ে এক ঘণ্টায় ইস্তফার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, সংক্ষিপ্ত জবাব সায়নীর

By : Supriya

Updated at : 20 jul 2026

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আবহে বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, দলত্যাগী নেতাদের আপত্তি যদি শুধুমাত্র তাঁকে নিয়েই হয়, তাহলে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলে ফিরে আসুন। সেক্ষেত্রে এক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। অভিষেকের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন, “Very nice of him. উনি যেটা বলছেন, ওটা উনি আরও ভাল বলতে পারবেন।”

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, যাঁরা দল ছেড়ে এখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তাঁরা চাইলে অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে আসতে পারেন। তাঁর কথায়, “আপনারা ফিরে আসুন, আমি এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি।” এমনকি তিনি সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, বিদ্রোহীরা তিনটের সময় ফিরলে তিনি চারটের মধ্যে পদত্যাগ করবেন।

বিদ্রোহীদের দলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জল্পনা বাড়ালেন সায়নী ঘোষ।


অভিষেকের দাবি, তৃণমূলের একাংশের দলত্যাগের প্রকৃত কারণ তিনি নন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে রেহাই পেতেই কেউ কেউ বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সমঝোতা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির নির্দেশিত ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করেননি এবং বিদ্রোহী নেতারাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিষেক আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী পরাজয়ের দায় যদি তাঁর উপর চাপানো হয়, তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের কৃতিত্বও তাঁকে দিতে হবে। তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা এখন তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাঁরা নির্বাচনের আগে কেন দল ছাড়েননি? তদন্তকারী সংস্থার তলবের মুখে তিনি নিজে দল ছেড়ে পালাননি বলেও দাবি করেন অভিষেক।

অভিষেকের চ্যালেঞ্জের পর সায়নী ঘোষের প্রতিক্রিয়ার দিকে রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর ছিল। একসময় অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সায়নীর নাম বর্তমানে বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অভিষেকের বক্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি দলে ফিরে আসা বা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা নিয়ে কিছু বলেননি। কেবল “Very nice of him” বলে মন্তব্য করে বিষয়টি অভিষেকই ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবেন বলে জানান। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ শতাব্দী রায় অভিষেকের প্রস্তাব কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ঘোষণা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। শতাব্দীর দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন অভিষেক পদত্যাগ করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত না।

অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও মদন মিত্রও। চন্দ্রিমার প্রশ্ন, এত দেরিতে কেন এই ‘বোধোদয়’? মদন মিত্রের মন্তব্য, তিনি আগেই অভিষেককে পদত্যাগ করার কথা বলেছিলেন। বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—যাঁদের আগে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা হয়েছিল, এখন তাঁদেরই কেন আবার দলে ফেরার আহ্বান জানানো হচ্ছে?

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলত্যাগীদের তৃণমূলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বিদ্রোহীদের বিজেপির দিকে না গিয়ে নিজেদের পরিবার, এলাকার মানুষ ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে বিদ্রোহীদের ঘরে ফেরানো নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই মতপার্থক্য রয়েছে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জ মূলত বিদ্রোহীদের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলার চেষ্টা। অন্যদিকে, সায়নীর সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট সম্মতি বা প্রত্যাখ্যান—কোনওটাই না থাকায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *