By : Supriya
Updated at : 22 july 2026
পশ্চিম এশিয়ায় ফের তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং এলপিজির বাজারে পড়তে শুরু করায় ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এই মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল—জুলাই মাসে ভারতে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানো হয়নি। কলকাতায় একটি ঘরোয়া সিলিন্ডারের বর্তমান মূল্য ৯৬৮ টাকা। দামটি গত ৭ জুন ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। জুলাইয়ের মাসিক সংশোধনে ঘরোয়া সিলিন্ডারের মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সা কমানো হয়েছে।
হরমুজে ঠিক কী ঘটছে?
সর্বশেষ জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করেছে, যা আগের দিনের চারটির থেকেও কম। ওই দিন কোনও বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ভিএলসিসি বা এলএনজি ট্যাঙ্কারকে প্রণালী পার হতে দেখা যায়নি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতেও হুথিদের হুমকির পর সৌদি তেলবাহী জাহাজ ঘুরে যেতে শুরু করেছে। ফলে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ একই সময়ে বিপদের মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এলএনজি রপ্তানির বড় অংশও এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘদিন জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলির উপর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে।
বর্তমানে কোন শহরে ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম কত?
| শহর | ১৪.২ কেজি ঘরোয়া এলপিজির দাম |
|---|---|
| কলকাতা | ₹৯৬৮.০০ |
| দিল্লি | ₹৯৪২.০০ |
| মুম্বই | ₹৯৪১.৫০ |
| চেন্নাই | ₹৯২৮.৫০ |
| বেঙ্গালুরু | ₹৯৪৪.৫০ |
| হায়দরাবাদ | ₹৯৯৪.০০ |
এই মূল্যগুলি জুলাই মাসের সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী। স্থানীয় পরিবহণ খরচ ও ডিস্ট্রিবিউটরভেদে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।
রান্নার গ্যাসের দামে প্রভাব পড়ে কীভাবে?
ভারতে এলপিজির খুচরো মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক এলপিজি বেঞ্চমার্ক, ডলার-টাকার বিনিময় হার, আমদানি খরচ, জাহাজভাড়া, বিমা এবং সরকারি ভর্তুকি নীতির ভূমিকা রয়েছে। হরমুজে ঝুঁকি বাড়লে প্রথমেই ট্যাঙ্কারের বিমা ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যায়। জাহাজকে ঘুরপথে চলতে হলে ডেলিভারির সময় এবং ভাড়াও বৃদ্ধি পায়।
এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক এলপিজির বেঞ্চমার্ক মূল্য বেড়ে গেলে ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির আমদানি খরচ বাড়ে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় সরকার বা তেল সংস্থাগুলি পুরোপুরি বহন না করলে তার একাংশ গ্রাহকদের উপর চাপানো হতে পারে। অর্থাৎ, হরমুজের অস্থিরতা আজই সিলিন্ডারের দাম বাড়ায়নি, কিন্তু পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি স্পষ্টভাবে বাড়বে।

জুনে কেন বেড়েছিল দাম?
গত ৭ জুন দেশজুড়ে ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়ানো হয়। দিল্লিতে মূল্য ৯১৩ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪২ টাকা এবং কলকাতায় ৯৩৯ টাকা থেকে বেড়ে ৯৬৮ টাকা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং তেল সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান সংগ্রহ ব্যয়ের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ফের কি দাম বাড়তে পারে?
পরবর্তী মূল্য সংশোধনের আগে মূলত চারটি বিষয়ের দিকে নজর থাকবে—হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফেরে কি না, আন্তর্জাতিক এলপিজির বেঞ্চমার্ক কতটা বাড়ে, ডলারের তুলনায় টাকা দুর্বল হয় কি না এবং সরকার তেল সংস্থাগুলিকে কোনও আর্থিক সহায়তা দেয় কি না।
তাই “ফের গ্যাসের দাম বেড়েছে” বলা এখনই সঠিক নয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম জুলাইয়ে অপরিবর্তিত। কিন্তু যুদ্ধ ও হরমুজ সংকট চলতে থাকলে আগস্ট বা পরবর্তী মাসগুলিতে রান্নার গ্যাস, পেট্রল-ডিজেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহণ খরচে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
