সামাজিক মাধ্যমে অরিজিৎ প্রশ্ন তোলেন, “এবার তো আপনারা ছাত্রছাত্রীদেরও মারধর করছেন। আপনাদের কি একটুও লজ্জা করছে না?” এরপর রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিশানা করে তাঁর আরও প্রশ্ন, “হ্যালো নেতা, মন্ত্রী! এসব কী চলছে? নিজেদের কি ভগবান ভেবে নিয়েছেন?”
By : Supriya Paul
Updated at : 22 july 2026
কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি অরিজিৎ। তাঁর বার্তায় ছিল কড়া সতর্কতাও। তিনি লেখেন, সব ঘটনা মানুষের মনে থেকে যাবে এবং ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী নয়। তাঁর কথায়, “সবকিছু মনে রাখা হবে। মনে রাখবেন, পরিবর্তনই একমাত্র চিরন্তন সত্য।” অরিজিতের এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীদের সমর্থনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
কেন আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা?
পরীক্ষা ও নিয়োগব্যবস্থায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলছে। যুবদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির অন্যতম প্রধান দাবি—পরীক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরাও অংশ নিয়েছেন।

২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে সংঘর্ষে বহু পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদ জানাতে সরাসরি চিঠি লেখার আহ্বান
অরিজিৎ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইমেল ঠিকানাও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সাধারণ মানুষকে শুধু পোস্ট বা মন্তব্যের মধ্যে প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ না রেখে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নিজেদের প্রশ্ন, অভিযোগ এবং দাবির কথা লিখে জানানোর আবেদন করেন তিনি।
পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিও আগেই সমর্থন জানিয়েছিলেন অরিজিৎ। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন ওয়াংচুক। পরে তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরেও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিষয়ে সাধারণত খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না অরিজিৎ সিংকে। তবে সামাজিক অন্যায় বা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের প্রশ্নে এর আগেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। এবার ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর তীব্র মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার পরিবর্তে বলপ্রয়োগ কি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে?
অরিজিতের বার্তার মূল সুর স্পষ্ট—ক্ষমতা মানুষের দেওয়া, তাই মানুষের প্রশ্নকে উপেক্ষা করে কিংবা প্রতিবাদ দমন করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
