কলকাতা, ৩০ মে: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ Abhishek Banerjee-র কলকাতার বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ শনিবার পৌঁছয় রাজ্য সিআইডির একটি দল। তবে বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তদন্তকারী আধিকারিকদের।
সূত্রের খবর, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তে নেমেছে সিআইডি। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, তাঁদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তাঁরা সেই নথিতে সই করেননি বা উপস্থিত ছিলেন না। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।
শনিবার চার সদস্যের একটি সিআইডি দল ‘শান্তিনিকেতন’-এ পৌঁছয়। বাড়ির কর্মীরা জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে নেই। এরপর তদন্তকারীরা নোটিস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সরাসরি সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়। সূত্রের দাবি, তাঁকে আগামী সোমবার সিআইডি দফতরে হাজিরার জন্য ডাকা হয়েছে।

সিআইডি আধিকারিকরা কিছুক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেন। পরে তাঁরা কালিঘাটের অন্য একটি ঠিকানাতেও যান। তবে তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে সিআইডির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘শান্তিনিকেতন’
গত কয়েকদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ নানা কারণে শিরোনামে। সম্প্রতি Kolkata Municipal Corporation (KMC) তাঁর ও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তিতে অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতির অভিযোগে নোটিস পাঠায়। ওই তালিকায় ‘শান্তিনিকেতন’-ও ছিল। বাড়ির নকশা ও পরবর্তী পরিবর্তনের নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে কলকাতা পুলিশও ‘শান্তিনিকেতন’-এ গিয়ে নজরদারি ব্যবস্থার কিছু সরঞ্জাম ও মনিটর পরীক্ষা বা জব্দ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক প্রশাসনিক ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিরোধীদের চাপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্ত এগোনো হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে।
‘শান্তিনিকেতন’-এ সিআইডির উপস্থিতি শুধু একটি তদন্তের ঘটনা নয়, বর্তমান বাংলার উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহেরও প্রতিফলন। গণতন্ত্রে তদন্ত অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ যেন তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে না ফেলে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। এখন দেখার, সিআইডির তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।
