সঞ্জয় গায়েন – কলকাতা :- বিশ্বকাপের কিক-অফের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ৫ জুন, ২০২৬—ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই উত্তেজনা, আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডার মাটিতে শুরু হতে চলেছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। কিন্তু এই উৎসবের আবহের মাঝেই আর্জেন্তিনা সমর্থক থেকে শুরু করে আপামর ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই কাঁটা খচখচ করছে—এটাই কি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ? কাতার বিশ্বকাপে আরাধ্য সোনালি ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখার পর অনেকেই ভেবেছিলেন মেসি হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন। কিন্তু তিনি খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। এবার, ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক প্রাক্কালে তাঁর অবসর জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

কী বললেন স্কালোনি?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, তিনি বা দল এখনই মেসির অবসর নিয়ে ভাবতে রাজি নন। আর্জেন্তাইন কোচের কথায়, “লিওর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা এখন কোনও আলোচনা করছি না। ও যতদিন মাঠে নামতে চাইবে, আর্জেন্তিনার দরজা ওর জন্য খোলা। এই বিশ্বকাপে ও খেলছে, আমরা সেটাই উপভোগ করতে চাই। ওর অবসরের দিনক্ষণ ঠিক করার দায়িত্ব একান্তই ওর। আমাদের কাজ হলো ওকে চাপমুক্ত রাখা।” স্কালোনির এই মন্তব্য থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার—দল মেসির ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। বরং, কোচ চাইছেন মেসি যেন তাঁর স্বাভাবিক ছন্দে এই বিশ্বকাপটাও উপভোগ করেন।
বয়স বনাম জাদুকরী স্কিল
বয়স একটা সংখ্যা মাত্র—এই প্রবাদটি মেসির ক্ষেত্রে যতটা খাটে, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বয়সের প্রভাব অস্বীকার করারও উপায় নেই। আগামী ২৪ জুন ৩৯-এ পা দেবেন এই ফুটবল জাদুকর। আগের মতো সেই চিতার গতিতে দৌড় বা তিন-চারজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য হয়তো এখন কিছুটা কম দেখা যায়। কিন্তু তাঁর প্লে-মেকিং, মাঠের ভিশন এবং ডেড-বল সিচুয়েশনে ম্যাজিক দেখানোর ক্ষমতা আজও বিশ্বের যে কোনও ডিফেন্সকে চুরমার করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মেজর লিগ সকারে (MLS) ইন্টার মায়ামির হয়ে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে যে, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি।

বাঙালির আবেগ ও ফুটবলের মনস্তত্ত্ব
কলকাতার চায়ের ঠেক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—বাঙালির ফুটবল আড্ডায় মেসি এবং আর্জেন্তিনা এক চিরন্তন আবেগের নাম। ২০২২ সালের সেই জাদুকরী রাত বাঙালি এখনও ভোলেনি। ২০২৬ সালেও তাই নীল-সাদা জার্সিধারীর দিকেই তাকিয়ে থাকবে কোটি কোটি চোখ। কিন্তু ফুটবলারদের একটা সময়ে থামতে হয়। পেলে, মারাদোনা, জিদান—সবাইকেই বুটজোড়া তুলে রাখতে হয়েছে। মেসির বেলাতেও সেই দিনটা আসবে।
উপসংহার: ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানই হোক উদযাপন
মেসি বিশ্বকাপের পর অবসর নেবেন কি নেবেন না, সেই বিতর্কে এখন ইন্ধন জোগানোর কোনও অর্থ নেই। স্কালোনি ঠিক যে কথাটি বলেছেন, সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তদেরও সেটাই করা উচিত—বর্তমানকে উপভোগ করা। হয়তো এটাই শেষবার আমরা তাঁকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে চলেছি। তাই অবসরের বিষণ্ণতাকে দূরে সরিয়ে রেখে, আসুন এই বিশ্বকাপটাকে লিওনেল মেসির এক বর্ণময় ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ সেলিব্রেশন হিসেবেই দেখি। মেসি মাঠে থাকা মানেই ফুটবলের সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যের সাক্ষী থাকার সুযোগ হয়তো আর বেশি দিন নেই।
