Jadavpur University : যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষের জেরে আঘাত ঐতিহ্যে, ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম

Updated at : 21.Aug 2026

ABVP-বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর, ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া অশান্তির রেশ গড়াল বৃহস্পতিবারেও। আর সেই অশান্তির মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী লোহার এমব্লেম। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের উপরে থাকা প্রতীকের একটি অংশ ভেঙে মাটিতে পড়ে যায় এবং সেটি পদদলিত হওয়ার দৃশ্যও সামনে এসেছে। ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে পড়ুয়া, শিক্ষক ও প্রাক্তনীদের একাংশের মধ্যে।

নন্দলাল বসুর নকশায় তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতীক শুধু একটি এমব্লেম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ সালের Annual Report অনুযায়ী, তিনটি প্রদীপকে পদ্মের পাপড়ির বৃত্তের মধ্যে রেখে তৈরি প্রতীকটির নকশা নন্দলাল বসুর নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়েছিল। প্রতীকের প্রদীপ জ্ঞানের প্রতীক; তিনটি শিখা বৌদ্ধিক প্রশিক্ষণ, আবেগ ও কল্পনার সমন্বয় এবং আধ্যাত্মিক বিকাশকে বোঝায়।

কীভাবে শুরু অশান্তি?

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে একটি ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢোকানোর অভিযোগ তোলে। রাতভর উত্তেজনা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।

বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ABVP এবং SFI-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি পৃথক কর্মসূচি নেয়। পুলিশের ব্যারিকেড ঘিরে ধস্তাধস্তি, স্লোগান এবং বিক্ষোভের জেরে যাদবপুর চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও RAF মোতায়েন করা হয়।

সংঘর্ষের মাঝেই ভাঙল এমব্লেম

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে থাকা নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রকাশিত রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, গেটের উপরে ওঠা এবং সেখানে ধস্তাধস্তির সময় প্রতীকের অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। তবে ঠিক কার হাতে বা কোন পক্ষের সদস্যের কারণে প্রতীকটি ভেঙেছে, তা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রয়েছে—তাই বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

‘ঐতিহ্যের অপমান’, সরব পড়ুয়া-প্রাক্তনীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং প্রাক্তনীদের একাংশের মধ্যে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাতের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়—এমনই মত উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

তদন্তের আশ্বাস উপাচার্যের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ঘটনাটিকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে জানিয়েছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যাদবপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গায়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আঁচ নতুন নয়। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির সংঘাত যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রতীকের উপর আঘাত হানে, তখন প্রশ্ন ওঠে—মতাদর্শের লড়াই কি এবার শিক্ষাঙ্গনের ঐতিহ্যকেও পদদলিত করছে?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *