সচেতনতার অভাব, নিরাপদ যৌন আচরণে অনীহা ও নিয়মিত পরীক্ষার ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা
Edited by ; Supriya Paul
Update at; 24.jun.2026
রাজ্যে HIV সংক্রমণের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছরই নতুন করে বহু মানুষ HIV-তে আক্রান্ত হচ্ছেন। উদ্বেগের বিষয় হল, আক্রান্তদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ফলে মা থেকে সন্তানের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, HIV নিয়ে এখনও সমাজে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করান না বা সংক্রমণের লক্ষণ বুঝেও চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এর ফলে রোগটি দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায় এবং অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চিকিৎসকদের দাবি, বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)-এর মাধ্যমে HIV আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে তার জন্য প্রয়োজন দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসা। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সময়মতো HIV পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মা থেকে সন্তানের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুল-কলেজ স্তর থেকে যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ যৌন আচরণের প্রচার এবং সহজলভ্য HIV পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজে HIV আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্য ও কুসংস্কার দূর করাও সমান জরুরি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলায় সচেতনতা কর্মসূচি, বিনামূল্যে HIV পরীক্ষা এবং চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণই এই সংক্রমণ রোধের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
