Updated at : 27Aug2026
কাঠমান্ডু: ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল। তিব্বত থেকে নেমে আসা প্রবল জলস্রোত ও হড়পা বানে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ধস, কাদা ও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু এবং একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে শত শত মানুষের কোনও খোঁজ মিলছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বহু ভারতীয়। নেপাল-তিব্বত হয়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া কমপক্ষে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার টিমুরে ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলস্রোত আছড়ে পড়ে। ভোতে কোশি নদীর জল উপচে পড়ে পরে ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে জল, কাদা ও পাথরের স্রোত একের পর এক এলাকা গ্রাস করতে শুরু করে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে হিমবাহ-সংক্রান্ত ধস বা বরফ-পাথরের বিশাল স্রোতের ভূমিকা থাকতে পারে। প্রথম দিকে ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহ বা বরফধসের সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে।
বন্যার জেরে নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিখোঁজ ভারতীয়দের উদ্ধারে তৎপর হয়েছে ভারতীয় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজে বেশ কয়েকজন ভারতীয় পর্যটককে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে আনার খবরও এসেছে। একইসঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।
পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হবে না।
