পচা মাংস উদ্ধারের নেপথ্যে ‘আমিষ-বিরোধী প্রচার’? তৃণমূলের বিস্ফোরক অভিযোগ, পাল্টা বিজেপির জবাব

Updated at : 09.09.2026

পুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। একাধিক জায়গায় পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তখনই এই অভিযানকে ঘিরে বড়সড় অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনাকে সামনে রেখে বাঙালির স্বাভাবিক আমিষভোজী খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভয় ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল মুখপাত্র অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এর পিছনে RSS ও বিজেপির একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আমিষ খাবার মানেই যেন পচা বা সংক্রমিত খাবার—এমন একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হচ্ছে।

শুধু তৃণমূল নয়, একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানও। তাঁর দাবি, আমিষ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ও ঘৃণা তৈরির চেষ্টা চলছে।

তবে এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পাল্টা দাবি করেছেন, আমিষ খাওয়ার সঙ্গে পচা বা ভাগাড়ের মাংস খাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, মানুষ আমিষ খাবেন, কিন্তু সেই খাবার অবশ্যই টাটকা ও নিরাপদ হওয়া উচিত। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানকে তিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলেই দাবি করেন।

এদিকে, রাজনৈতিক চাপানউতোরের বাইরে বাস্তবে একাধিক জায়গায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে অনিয়মের ছবি সামনে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় একটি রেস্তোরাঁ থেকে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। কলকাতার ট্যাংরাতেও একটি রেস্তোরাঁয় বিপুল পরিমাণ মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক অভিযানে শুধু মাংস নয়, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, কোথাও অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর, আবার কোথাও ফাঙ্গাস ধরা খাদ্যসামগ্রীও পাওয়া গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দুটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—একদিকে খাদ্যের গুণমান ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অন্যদিকে এই অভিযানকে ঘিরে ওঠা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ। তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত খাদ্য সুরক্ষা অভিযান কতটা নিয়ম মেনে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে হচ্ছে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

নোট: আপনার দেওয়া মূল দাবিটিকে সরাসরি সত্য হিসেবে না লিখে “তৃণমূলের অভিযোগ” হিসেবে রাখা হয়েছে—কারণ ‘আমিষ সম্পর্কে ঘৃণা তৈরি করার পরিকল্পনা’ সংক্রান্ত দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *