By: Supriya Paul
Updated at : 28 july 2026
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিয়ে বড় আশ্বাস মিলেছে বলে দাবি করলেন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। সোমবার গভীর রাতে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠকের পর তিনি এই খবর জানান।
সৌরভ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা, গ্রেফতার এবং আটকের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। সরকার পক্ষ থেকে মামলাগুলি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার এবং আটক আন্দোলনকারীদের দ্রুত মুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
বৈঠকের পর এক বার্তায় সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কিংবা যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের কাউকেই একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রতিটি মামলার বিষয়ে সংগঠন নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তাও দেওয়া হবে।
সিজেপি সূত্রের দাবি, বিশেষ করে বিহার ও অসমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আটক ও গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং মামলার তথ্য যাচাই করে তাঁদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সর্বভারতীয় সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সিজেপির বক্তব্যের বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্দোলনকারীদের।
এর আগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের অভিযোগ সামনে আসার পর নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সিজেপি। সংগঠনের দাবি ছিল, আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি কার্যকর না হলে তারা ফের রাস্তায় নামবে। সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই গভীর রাতের বৈঠক হয়।
সৌরভ দাস জানিয়েছেন, শুধু একটি বা দুটি রাজ্য নয়, দেশের যেসব জায়গায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেখানকার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালানো হবে।
মাঝরাতের তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আন্দোলনকারীদের মূল প্রশ্ন এখনও বহাল রয়েছে। কবে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা প্রত্যাহার হবে, কতজন আটক ব্যক্তি মুক্তি পাবেন এবং সব রাজ্যে একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে।
সিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে। প্রয়োজন হলে আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়েও নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
