চলন্ত ট্রেনের এসি কোচে প্রদীপ-ধূপ জ্বালিয়ে পুজো! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নিরাপত্তা বিতর্ক

চলন্ত ট্রেনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে পুজো করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। বদ্ধ কোচের মধ্যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আপত্তি জানান সহযাত্রীরা। খোলা আগুন থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় রেলের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।

কী দেখা গিয়েছে ভাইরাল ভিডিওতে?

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের একটি এসি কামরার উপরের বার্থে বসে এক ব্যক্তি পুজো করছেন। তাঁর সামনে জ্বলছে তেল বা ঘিয়ের প্রদীপ। পাশাপাশি ধূপকাঠিও জ্বালানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কামরার ভিতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এই দৃশ্য দেখে এক সহযাত্রী ওই ব্যক্তিকে প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ধোঁয়ার কারণে কোচের ফায়ার অ্যালার্ম সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। সামান্য অসাবধানতায় বিছানার চাদর, পর্দা বা যাত্রীদের মালপত্রে আগুন ধরে বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

ধর্মীয় আচার নয়, প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের বড় অংশ ওই যাত্রীর আচরণের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় আচার পালন করায় কোনও আপত্তি নেই; কিন্তু জনপরিবহণের ভিতরে এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে অন্য যাত্রীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

বিশেষ করে এসি কামরা অনেকটাই বদ্ধ হওয়ায় ধূপের ধোঁয়া শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা যাত্রীদের সমস্যায় ফেলতে পারে। পাশাপাশি চলন্ত ট্রেনের দুলুনিতে প্রদীপ উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। সমাজমাধ্যমে অনেকে ব্যাটারিচালিত বা বৈদ্যুতিক প্রদীপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে কয়েকজন ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ঘটনাটি নিয়ে অতিরিক্ত ধর্মীয় বিতর্ক না করে সমস্ত ধরনের অগ্নি-নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেই সমানভাবে কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

কী জানিয়েছে রেল?

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভিডিওটি কোন ট্রেনে, কবে এবং কোন রুটে তোলা হয়েছিল—তার নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ভিডিওটির ভিত্তিতে কোনও যাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেই তথ্যও নিশ্চিত নয়।

তবে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ সামনে আসার পরে রেলওয়ে সেবা সংশ্লিষ্ট পোস্টে ট্রেনের নম্বর, যাত্রার তারিখ এবং পিএনআরের মতো তথ্য চেয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দ্রুত অভিযোগ জানাতে যাত্রীরা ‘রেল মদদ’ পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন বলেও জানানো হয়।

রেলের অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কী বলছে?

ভারতীয় রেল যাত্রীদের ট্রেনে দাহ্য ও অগ্নিসংযোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন সামগ্রী বহন না করার জন্য নিয়মিত সতর্ক করে। রেল আইনের ১৬৪ ধারায় বিপজ্জনক বা দাহ্য সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে। রেলের বিভিন্ন কোচে অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র এবং আগুন ও ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বসানোর কাজও করা হয়েছে।

তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই আইনের কোনও ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে—এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তাই ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা ঠিক হবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতা জরুরি

চলন্ত ট্রেনে একটি ছোট আগুনও মুহূর্তের মধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কোচে থাকা চাদর, ব্যাগ, কাগজ বা অন্যান্য সামগ্রীতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে ধর্মীয় বা অন্য যে কোনও উদ্দেশ্যেই হোক, ট্রেনের ভিতরে প্রদীপ, মোমবাতি, ধূপ কিংবা অন্য কোনও খোলা আগুন ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *